শান্তনুর সংসার ধর্ম ১

বিয়ের তখন পাঁচ বছর পেড়িয়ে গেছে। শান্তনুর বৌ পিএইচডি শুরু করছে। সেবার পুজোতে শ্বশুড়বাড়ি গিয়েছে দুজনে কয়েকদিনের জন্য। লক্ষ্মীপুজোর আগেরদিন। শান্তনুর বৌয়ের মাসিক শুরু হয়। জানতে পেরে, শান্তনুর মা, মানে বৌমার শ্বাশুড়িমাতার বিরক্তিসহ প্রশ্ন, 'জানো বাড়িতে পুজো আছে, ওষুধ খেয়ে পিছিয়ে দিতে পারলে না?' তারপর ক্রমাগত 'ছি ছি', 'কি হবে', 'ছুঁয়ে যাবে', 'অশুদ্ধ হয়ে যাবে', 'এমা!' এইসবের ফোয়ারা চলতে থাকে শুনিয়ে শুনিয়ে। বাড়ির কেউ কোন প্রতিবাদ করে না। একা ভিতরের ঘরে বসে চোখের জল মুছতে হয় অপরাধী বৌমাকে। এতটাই অরুচিকর লাগে যে প্রতিবাদের ভাষাও খুঁজে পায় না। শেষে ব্যাগ গুছিয়ে বান্ধবির বাড়ি চলে যায়। যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুনে শান্তনু থামানোর চেষ্টা করে, বাড়ির মান-সম্মানের রক্ষার্থে। থামাতে না পেরে, দায়িত্ব নিয়ে বৌকে বন্ধুর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজে বাড়ি ফিরে যায়।
বাড়িতে প্রতিবারের মতোই ধুমধাম করে পুজো হয়। বিদেশ থেকে আসা দিদি জামাইবাবু মিলে জমিয়ে আনন্দ হয়। ঘর জুড়ে মা মেয়েতে আল্পনা দেয়। শান্তনুর মনটা বৌয়ের কাছে পড়ে থাকলেও (তার দাবী অনুযায়ী), এই উৎসবের মধ্যে সর্বৈব্য ভাবেই থাকে। এমনকি জানতেও চায় না বৌ কবে ফিরবে। বৌমাটি নিজের দায়িত্বেই ফিরে আসে পুজোর পরে। ফিরে এসেও এই বিষয় নিয়ে সে আর কোন কথা না তোলায়, সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মেই চলতে থাকে। হ্যাঁ, তবে ঘর ঢোকার সময়, ‘লক্ষ্মীর পা‘ আঁকা আল্পনাতে যে পা দিতে নেই- এটা শান্তনু ঠিক মনে করিয়ে দেয় বৌকে।
**************************
কিছুদিন আগে এই প্রসংঙ্গ নিয়ে কথা উঠলে সেই শ্বাশুড়িমাতা বৌমাকে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনাটা বৌমা কাউকে বলে পারে যেনে উনি নাকি হাসি থামাতেই পারছেন না। শ্বাশুড়ির মন্তব্য অবশ্য শান্তনুর মনে আগেও কোন প্রতিক্রিয়া জাগায় নাই, এখনও নয়। আর শ্বশুরমশাই জানিয়েছেন, তিনি নাকি নিজে বাড়িতেই থাকা সত্ত্বেও, বৌমা কেন দেড়দিন বাড়ির বাইরে রইল- এটা ঠিক জানতেন না। তাঁর সমর্থনে শান্তনুও জানিয়েছে যে তিনি জানলে এতবড় অন্যায় নাকি হতে দিতেন না।
আহ! অবুঝ পরিবার বটে!




Comments